বয়স মাত্র উনিশ

২০১৯ যাত্রা শুরু করছে আজ। আর যে মেয়েটি আঠারো পেরিয়ে উনিশে রেখেছে পা, সেই মেয়েটির পোশাক কেমন হবে? দেখুন প্রচ্ছদ প্রতিবেদন।

ফুলেল নকশার কুর্তির সঙ্গে একরঙা লেগিংস, সদ্য তরুণীর পোশাক তো এমনই

ইশ্‌। ইনস্টাগ্রামে তুষারপাতের ছবি দেখে ইচ্ছে করছে এখনই চলে যেতে ওখানে। বরফ বল বানিয়ে খেলতে। কখনোবা মনে হয় একদল সঙ্গী–সাথি নিয়ে বেরিয়ে পড়তে হিমছড়ির বনে-জঙ্গলে। পাহাড়, ঝরনা, নদী—সব দাপিয়ে বেড়াতে! মাঝেমধ্যে আবার মনে হয় একা একা নীলগিরির মেঘ ছুঁয়ে আসতে। মনে হয় মেঘ হয়ে উড়ে যাই এক দেশ থেকে আরেক দেশে, ঘুরে দেখতে পুরো পৃথিবী। জেনে নিতে মন চায় সব অজানা, জিতে নিতে পুরা বিশ্ব! অষ্টাদশী হয়েছে আরও একটু পরিপক্ব, আত্মবিশ্বাসের জায়গা মজবুত হয়েছে আরও। সব ইচ্ছেতে একটু একটু শুরু হয়েছে বিচারবোধ। কারণ, উনিশে পড়ে গেছে পা।


ফুলেল নকশার কুর্তির সঙ্গে একরঙা লেগিংস, সদ্য তরুণীর পোশাক তো এমনই

পোশাকে ভিন্নতা
এই বয়সে মেয়েরা নিজের সৌন্দর্য, ভালো লাগা, পরিবার, বন্ধুবান্ধব, লেখাপড়া, আশপাশের পরিবেশ—সব নিয়ে একটু সচেতন হয়ে ওঠেন। পোশাক তার মধ্যে অন্যতম। নতুন কোন ফ্যাশন চলছে, কোন স্টাইলে নিজেকে সবার থেকে একটু অন্যভাবে উপস্থাপন করা যায়, তা নিয়ে শুরু হয়ে যায় জল্পনাকল্পনা। সাধারণত, মেয়েরা এখন সালোয়ার কুর্তা বা জিনস টপে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কুর্তাতেও এখন এসেছে নতুন ছাঁট ও কাট। আঁটসাঁট কামিজ বা কুর্তার চেয়ে একটু এ-লাইন প্যাটার্নের বা বেশি ঢিলা টপ বেশি জনপ্রিয়। 

সে ক্ষেত্রে হাতায় এসেছে অনেক রকম ভিন্নতা। বেল স্লিভস, রাফেলস, টিউলিপ, ফ্রিল, কোল্ড শোল্ডার—নতুন নতুন হাতা এই বয়সের মেয়েরা স্বাচ্ছন্দ্যে যোগ করে নিচ্ছেন তাঁদের পোশাকে। এ ক্ষেত্রে তিন বা সাড়ে তিন হাতাওয়ালা পানা কাপড়ের দেড় গজ কাপড়ে হয়ে যাবে টপ। রাফেলস বা বেল স্লিভসের জন্য আরেকটু কাপড় বাড়িয়ে কিনতে হবে। টপের রংটি একরঙা হয়ে হাতাটা হতে পারে প্রিন্টের। কিংবা একটা প্রিন্টের টপের সঙ্গে পরতে পারেন একরঙা প্যান্ট বা স্কার্ট। প্যান্টেও এখন অনেক ধরনের প্যাটার্ন জনপ্রিয়—টিউলিপ প্যান্ট, বক্স প্লিট প্যান্ট, হারেম প্যান্ট, সারারা প্যান্ট, রাফেলস প্যান্ট, ডিভাইডারে হেমলাইনে ফ্রিল বা লেসের সমন্বয়। আড়াই হাত পানার কাপড়ে আড়াই থেকে তিন গজ কাপড়ে হয়ে যাবে এসব প্যান্ট। তবে হারেম প্যান্ট বা সারারা প্যান্টে কাপড় কিনতে হবে আরেকটু বেশি। সুতি, লিনেন বা সিল্কে পাওয়া যায় বিভিন্ন রঙের বা প্রিন্টের কাপড়। বন্ধুদের আড্ডায়, ক্লাসে বা কোচিংয়ের জন্য এই কাপড়গুলো দিয়ে পছন্দমতো কিছু বানিয়ে নিতে পারেন বা কিনেও নিতে পারেন। ফ্যাশনেবলের পাশাপাশি এই কাপড়গুলো আরামদায়কও।

দাওয়াতের পোশাকের সঙ্গে সাজে বিশেষ নজর থাকে

দাওয়াতের পোশাকের সঙ্গে সাজে বিশেষ নজর থাকে

দাওয়াতে
কোনো বিয়েবাড়ির দাওয়াতে বা আত্মীয়ের বিয়েতে কাপড় নিয়ে দেখা যায় উনিশের মেয়েদের বাড়তি ঔৎসুকতা। কী পোশাক পরবেন, তার কাট বা ধরন, রং এবং সাজ নিয়ে শুরু হয়ে যায় জল্পনাকল্পনা। এ ক্ষেত্রে লেহেঙ্গা, ক্রপ টপের সঙ্গে ঘেরওয়ালা স্কার্ট, সারারা কামিজ, গাউন বেশ জনপ্রিয়। সিল্ক, জর্জেট, ভেলভেট, কাতান সিল্ক—যেকোনো একরঙা কাপড়ে টপ এবং প্রিন্ট কাপড়ে স্কার্ট বা লেহেঙ্গার সঙ্গে চওড়া লেসের পাড় হতে পারে। প্রিন্ট এবং একরঙা—দুটোই মানিয়ে যাবে। 
এর সঙ্গে চুলের ব্লো ড্রাই, কোঁকড়া বা ছাড়া চুলে হতে পারে সেই সাজ। সঙ্গে হালকা একটু সাজ, হাতভর্তি চুড়ি বা হালফ্যাশনের লম্বা কানের দুল। ব্যস, তৈরি। উনিশের নিজস্ব সৌন্দর্য, বুদ্ধিদীপ্ত চোখ আর নির্মল হাসি তাঁকে সারাক্ষণ করে রাখবে উচ্ছল আর প্রাণবন্ত।
লেখক: ডিজাইনার, মুমু মারিয়া

প্রথম আলো থেকে নেওয়া




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!